সার্চ করুন

শনিবার, ২৯ জুন, ২০১৯

ইসলাম ধর্ম- এর প্রবর্তক মুহাম্মদ(সাঃ) নন

  Admin       শনিবার, ২৯ জুন, ২০১৯

‘ইসলাম’ শব্দের অর্থ আত্মসমর্পণ এবং এই শব্দের উৎপত্তি আরবি শব্দমূল ‘সলম’ থেকে যার অর্থ শান্তি। ইসলামিক পরিভাষায় একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে শান্তি লাভ করার ধর্মকেই বলা হয় ইসলাম ধর্ম। একমাত্র আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে বিশ্বাস এবং মুহাম্মদ(সাঃ) কে সর্বশেষ বার্তাবাহক(স্রষ্টার) বলে মেনে নেয়াটা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা। যারা এই ধর্ম অনুসরণ করে তাদেরকে বলা হয় মুসলিম।

ধর্মগ্রন্থঃ একমাত্র কুরআনকেই মুলিমরা অবিকৃত ঐশী বাণী বলে বিশ্বাস করে। এছাড়া ধর্মপালনের জন্য হাদিসের অনুসরণ করে। হাদিসকে শুদ্ধ মনে করা হলেও কুরআনের মত বিশুদ্ধ এবং সংরক্ষিত মনে করা হয় না। 

উৎপত্তিঃ মুহাম্মদ(সাঃ) ইসলাম প্রচার শুরু করেন তার নবুয়ত পাওয়ার পরে অর্থাৎ, ৪০ বছর বয়সে। ৬১০ খ্রিস্টাব্দে তিনি এই ধর্মের প্রচার শুরু করেন, সেই হিসেবে বলতে পারেন তখন এই ধর্মের উৎপত্তি ঘটে।কিন্তু মুসলিমদের মতে সৃষ্টির শুরু থেকেই এটি আছে।

প্রবর্তকঃ অমুসলিমদের মতে এই ধর্মের প্রবর্তক এর প্রথম প্রচারক মুহাম্মদ, কিন্তু মুসলিমদের মতে, মুহাম্মদ(সাঃ) এই ধর্মের প্রবর্তক নন। তিনি শেষ নবী এবং একজন প্রচারক। 

মূল বাক্যঃ 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বঙ্গানুবাদ- কোন উপাস্য নেই, আল্লাহ ছাড়া। বুঝতেই পারছেন একেশ্বরবাদই এই ধর্মের মূল কথা। 

সাতটি বিষয়ের উপর বিশ্বাস(ঈমানে মুফাসসাল)

মুসলিমরা সাতটি বিষয়ে কোন শর্ত ছাড়াই বিশ্বাস করে, এর উপর ভিত্তি করে অন্যন্য বিষয়ে তারা যুক্তি দিয়ে বিচার করার চেষ্টা করে
  1. আল্লাহঃ একক ও অন্যন্য। তার কোন মূর্তি, ছবি বা, প্রতিবিম্ব নেই। আল্লাহর বৈশিষ্ট্যগুলো মানুষের পক্ষে ব্যাখ্যা করা সম্ভব না।
  2. ফেরেশতাঃ অসংখ্য ফেরেশতা রয়েছেন যারা আল্লাহর নির্দেশে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত আছেন। মানুষের মত তাদের ভালো-মন্দ কাজের ক্ষমতা নেই, শুধু আল্লাহর নির্দেশই তারা পালন করেন।
  3. রাসূলগণঃ মানুষের মধ্য থেকে বেছে নেয়া আল্লাহর প্রতিনিধি যারা, আল্লাহর বার্তা মানুষের কাছে পৌছে দেয়। কিতাবগুলো তাদের কাছে অবতীর্ণ হয়েছে।
  4. কিতাবসমূহঃ রাসূলগণের কাছে জিব্রাইল ফেরেশতার মাধ্যমে আসা বাণী যা, বই আকারে পাওয়া যায়। মোট ১০৪ টি কিতাব সৃষ্টিকর্তা আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন, যার মধ্যে চারটি বড়। শেষ কিতাব কুরআন হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) এর কাছে এসেছে।
  5. আখিরাতঃ মৃত্যু পরবর্তী জীবন যেখানে মানুষের এই জীবনের ভাল-মন্দ কাজের ভিত্তিতে বিচার করা হবে এবং পুরষ্কার বা, শাস্তি দেয়া হবে
  6. ভাগ্যের ভালো মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিতঃ মানুষ তার ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। চেষ্টা করলে যেকোন কাজেই মানুষ সাধারণত সফলতা পায়।
  7. শেষ বিচারের দিন পুনরুত্থানের উপরঃ কিয়ামতের পর সব মানুষ আবার পুনরুত্থিত হবে। কিয়ামত হচ্ছে মহাপ্রলয়ের সময় যে সময় পৃথিবী ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে।

ইসলাম ধর্মের স্তম্ভ

ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস
Photo Credit: Wikimedia Commons
  1. বিশ্বাসের ঘোষণা (কালিমা বা, শাহাদাহ)
  2. বাধ্যতামূলক উপাসনা(নামাজ)
  3. বাধ্যতামূলক গরীব মানুষদের ধনীদের সম্পদ থেকে একটি ছোট অংশ দেয়া(যাকাত)
  4. রামাদান (রমজান) মাসে রোজা রাখা
  5. শারিরিক এবং আর্থিক সামর্থ্য থাকলে মক্কায় হজ্জ করা
 

মুসলিমদের মধ্যে ভাগ/ফেরকা/মাজহাব 

এই ব্যাপারে কোন কিছু লিখবো না, একটি ছবি দেখাবো। আশা করি তাতে ভালো ধারণা পাবেন-
ছবির কৃতিত্বঃ Angelpeream, ছবিটি Creative Commons Attribution-Share Alike 3.0 Unported লাইসেন্স এর আওতাভুক্ত। 

ধারাবাহিকতা

ইসলাম ৬১০ খ্রিস্টাব্দে ৪০ বছর বয়স্ক মুহাম্মদ(সাঃ) এর প্রবর্তিত কোন ধর্ম নয়, এটি ধারাবাহিকতার অংশ(মুসলিমরা এটাই বিশ্বাস করে, অন্যদের বিশ্বাস আলাদা)। পৃথিবীর প্রথম মানুষ আদম(আঃ) থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত অসংখ্য নবী মানুষকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য এসেছেন। পৃথিবীর সব জাতির মধ্যে আল্লাহ রাসূল প্রেরণ করেছেন। সর্বশেষ ও চুড়ান্ত নবী হচ্ছেন- হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)। ঈসা(আঃ)(যিশু), মূসা(আঃ)(মোজেস) এবং অন্যান্য নবীরা এক আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে মেনে নেয়ার মাঝেই শান্তি খুজেছেন বলে মুসলিমরা বিশ্বাস করে।
তথ্যসূত্রঃ
logoblog

এই লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদঃ ইসলাম ধর্ম- এর প্রবর্তক মুহাম্মদ(সাঃ) নন

পূর্বের পোস্ট
« Prev Post
পরের পোস্ট
Next Post »

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

লেখাটি যদি পড়ে থাকেন, তাহলে আপনার মন্তব্য প্রত্যাশা করছি। সমালোচনা, পরামর্শ কিংবা, প্রাসঙ্গিক যেকোন মত প্রকাশকে আমরা স্বাগত জানাই।