সার্চ করুন

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন, ২০১৯

খ্রিস্ট ধর্ম- পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী মানুষের ধর্মবিশ্বাস

  Admin       বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন, ২০১৯

খ্রিস্ট ধর্ম নাজারাথের যিশুর জীবন এবং শিক্ষার উপর প্রতিষ্ঠিত। এই ধর্মে বিশ্বাসীরা মনে করে, যিশু ঈশ্বরের পুত্র, যিনি পিতা ছাড়াই মাতা মেরীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এই ধর্মে বিশ্বাসীরা খ্রিস্টান নামে পরিচিত, তাদের ধর্মগ্রন্থের নাম বাইবেল। বিশ্বাসীরা মনে করে ওল্ড টেস্টামেন্টে যিশুর আগমনের ব্যাপারে ইঙ্গিত দেয়া আছে, আর তার আগমন ঘটেছে মানবজাতিকে রক্ষা করতে। তিনি মেসিয়াহ বা, ত্রানকর্তা।

খ্রিস্টানদের বিশ্বাস

ক্যাথলিকরা বিশ্বাস করেন- পবিত্র পিতা, পবিত্র পুত্র এবং পবিত্র আত্মা এই তিনজনই ঈশ্বর এবং তিনি হচ্ছেন যিশু। সোজা কথায় ঈশ্বর তিনটি আলাদা রূপে মানুষের কাছে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন।ট্রিনিটি এবং মানবজাতীর পাপের জন্য যিশু মারা গেছেন এই বিশ্বাসকে খ্রিস্টানদের বড় একটি অংশ তাদের ধর্মের মূলনীতি বলে মনে করেন। অন্যান্য আব্রাহামিক ধর্মগুলোর মত এটিও একেশ্বরবাদী। মানুষরূপী যিশু জাতিতে ছিলেন একজন ইহুদি। তিনি ছিলেন ইহুদিদের রাজা এবং অনেক অলৌকিক কাজ সম্পাদন করেছিলেন-
  • তিনি মৃতকে জীবিত করতে পারতেন
  • অসুস্থকে সুস্থ করতে পারতেন
  • আবহাওয়া নিয়ন্ত্রন করতে পারতেন
  • মানুষকে খাদ্য ও পানীয় যুগিয়েছিলেন

মৃত্যুর তিনদিন পর তিনি ফিরে আসেন

বাইবেলের নতুন নিয়ম অনুসারে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর তিনদিন পরে যিশু আবার পৃথিবীতে ফিরে আসেন। এই সময় অনেকেই তাকে দেখেছে বলে বাইবেলে বর্ণিত আছে। এর কিছুদিন পরে তিনি আবার স্বর্গে তার পিতার নিকট ফিরে গিয়েছিলেন।
যিশুর বারোজন শিষ্য ছাড়াও সন্ত পৌল, আদি খ্রিস্টধর্ম প্রচারকদের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছেন। বাইবেলের নতুন নিয়মের বেশ কিছু পুস্তক তিনি রচনা করেছেন। যিশুর মৃত্যুর পর তার শিষ্যরা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং যিশুর শিক্ষা মানুষের মাঝে প্রচার শুরু করেন।
ইহুদি, খ্রিস্টান এবং মুসলিমদের মাঝে যিশুকে নিয়ে মতভেদ আছে। খ্রিস্টানদের বিভিন্ন দল বা, মন্ডলী থাকলেও একেশ্বরবাদী এই ধর্মটির কেন্দ্রে রয়েছেন যিশু- এটি সবার ক্ষেত্রেই সত্যি।
ধর্মের বইঃ খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থের দুটি ভাগ রয়েছে- একটি ওল্ড টেস্টামেন্ট আরেকটি নিউ টেস্টামেন্ট। খ্রিস্টানরা মনে করেন তারা নিউ টেস্টামেন্টের যুগে বাস করেন, ওল্ড টেস্টামেন্ট ঈশ্বরের বাণী হলেও এখন প্রযোজ্য নয়। অন্য ধর্মাবলম্বীরা যেসব বিষয় নিয়ে সাধারণত অভিযোগ তোলেন সেগুলো আছে ওল্ড টেস্টামেন্টে।

ইতিহাসঃ প্রথম খ্রিস্টাব্দ থেকেই এই ধর্মের শুরু। যিশুর মৃত্যুর কিছুদিন পর থেকেই তাঁর শিষ্যরা রোমে বিভিন্ন অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করে ধর্মপ্রচার করতে থাকে। পরে এটি একসময় রোমের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পায়।

প্রসারঃ এটি রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় মূলত ৩১৩ খ্রিস্টাব্দের পরে। কনস্টান্টাইনের সময় থেকে এটি প্রসার লাভ করতে থাকে।গানঃ বিভিন্ন ভক্তিমূলক গান খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারীরা গাইতে এবং শুনতে পছন্দ করেন। বাংলাদেশেও বাংলা ভাষায় এইসব গান গাওয়া হয়। একটি গান শোনাই-
পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী মানুষের অনুসরণ করা এই ধর্মের অনুসারী সংখ্যা ২৪০ কোটিরও বেশী। বাংলাদেশী পাদ্রী প্যাট্রিক ডি রোজারিও ক্যাথলিক গীর্জার একজন কার্ডিনাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তথ্যসূত্রঃ
  1. ঈশ্বর সম্বন্ধে সত্যটা । বাইবেল কি শিক্ষা দেয়
  2. খ্রিস্ট ধর্ম- উইকিপিডিয়া
logoblog

এই লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদঃ খ্রিস্ট ধর্ম- পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী মানুষের ধর্মবিশ্বাস

পূর্বের পোস্ট
« Prev Post
পরের পোস্ট
Next Post »

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

লেখাটি যদি পড়ে থাকেন, তাহলে আপনার মন্তব্য প্রত্যাশা করছি। সমালোচনা, পরামর্শ কিংবা, প্রাসঙ্গিক যেকোন মত প্রকাশকে আমরা স্বাগত জানাই।